বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধা জেলার সাবেক আমীর, প্রবীণ সদস্য (রুকন), পলাশবাড়ি সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক সকলের শ্রদ্ধাভাজন মাস্টার সিরাজুল ইসলাম বার্ধক্যজনিত কারণে ১০ জুলাই ভোর ৪টায় ৭৬ বছর বয়সে ঢাকার মোহাম্মাদপুরে অবস্থিত তাঁর মেয়ের বাসায় ইন্তিকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন)। তিনি ৩ পুত্র ও ১ কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে গিয়েছেন। মরহুমের ১ম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় বাদ জোহর রাজধানী ঢাকার মোহাম্মাদপুরের চাঁদ উদ্যান আবাসিক এলাকার বায়তুর রহমান জামে মসজিদে। ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য জিয়াউল হাসান ও স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দসহ বহু মুসল্লী। মরহুমের ২য় জানাযার নামাজ রাত ০৯.০০ টায় পলাশবাড়ি এস.এম.পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং রাত ১০.০০ টায় বিশ্রামগাছী নিজ বাসভবনে ৩য় জানাযা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, তিনি ১৯৮২ সালে জামায়াতের সদস্য (রুকন) হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। এর পূর্বে তিনি জেলা কর্মপরিষদের সদস্য ও পলাশবাড়ি উপজেলা আমীর হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

শোকবাণী

মাস্টার সিরাজুল ইসলামের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ১০ জুলাই এক শোকবাণী প্রদান করেছেন।

শোকবাণীতে তিনি বলেন, মাস্টার সিরাজুল ইসলামের ইন্তিকালে আমরা ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিত প্রাণ দাঈকে হারালাম। তিনি ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রচার ও প্রসারে তাঁর অনেক অবদান রয়েছে। আমি তাঁর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি।

শোকবাণীতে তিনি আরও বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁকে ক্ষমা ও রহম করুন এবং তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন। তাঁর গুনাহখাতাগুলোকে ক্ষমা করে দিয়ে নেকিতে পরিণত করুন। কবর থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রত্যেকটি মঞ্জিলকে তাঁর জন্য সহজ, আরামদায়ক ও কল্যাণময় করে দিন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁকে জান্নাতে উচ্চ মাকাম দান করুন এবং তাঁর শোকাহত পরিবার-পরিজনদেরকে এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন।

অপর এক যুক্ত শোকবাণীতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, গাইবান্ধার সাবেক জেলা আমীর ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহিম সরকার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা আমীর, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জননেতা মো. আব্দুল করিম, জেলা নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা নায়েবে আমীর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জহুরুল হক সরকার, সহকারী সেক্রেটারি সৈয়দ আব্দুস সালেক গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, মাস্টার সিরাজুল ইসলাম ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক জীবন-যাপনের চেষ্টা করতেন। তিনি দ্বীন প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপ‚র্ণ অবদান রেখে গিয়েছেন। আমরা তাঁর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি। আল্লাহ তায়ালা তাঁর জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে দাখিল করুন এবং তাঁর শোকাহত পরিবার-পরিজনদেরকে ছবরে জামিল দান করুন।